১৯৯২ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট যারা দেখেছেন তাদের হয়ত মনে আছে পাকিস্তানের বিপক্ষে দূরন্ত এক ডাইভ দিয়ে ইনজামামকে রান আউট করার কথা। ওই এক রান আউটেই রাতারাতি দক্ষিণ আফ্রিকায়সহ বিশ্বের ক্রিকেট প্রেমীদের প্রিয় খেলোয়ার হয়ে উঠছিলেন জন্টি রোডস।
ছয় মাস খেলতেন ক্রিকেট, ছয় মাস হকি। দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় হকি দলের সদস্য ছিলেন ১৯৯২ সালের অলিম্পিক দলেও। বর্ণবাদী সরকারি নীতির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় ছিল বলে হকিকেই ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পালাবদলে ক্রিকেট থেকে আইসিসির নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার অনুমতি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পান তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ বিশ্বকাপ দলে এই খেলোয়েোর নাম দেখে অবাক হয়েছিলেন। খেলোয়ার নিজেও কম অবাক হন নি। বলছি জন্টি রোডসের কথা।
১৯৯২ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট যারা দেখেছেন তাদের হয়ত মনে আছে পাকিস্তানের বিপক্ষে দূরন্ত এক ডাইভ দিয়ে ইনজামামকে রান আউট করার কথা। ওই এক রান আউটেই রাতারাতি দক্ষিণ আফ্রিকায়সহ বিশ্বের ক্রিকেট প্রেমীদের প্রিয় খেলোয়ার হয়ে উঠছিলেন জন্টি রোডস। ব্যাটিংয়ে ঝলক দেখিয়ে কিংবা বোলিংয়ে বাঘা বাঘা প্লেয়ারদের আউট করে নয়, ফিল্ডিং দিয়ে। ২০০৩ সাল পর্যন্তু ক্রিকেট বিশ্ব উপভোগ করেছে জন্টি রোডসের ফিল্ডিং। কখনো বাতাসে উড়ে গিয়ে ক্যাচ ধরেছেন, আবার কখনো অসম্ভব সব ডাইভ দিয়ে রান বাঁচিয়েছেন, রান আউট করেছেন। জন্টি রোডস্ মানেই যেন ছিল ক্রিকেট মাঠে একজন এক্রোবেটের দেখা পাওয়া।
ক্রিকেটারা সাধারণত পরিচিত হন ব্যাটসম্যান, বোলার অথবা অল রাউন্ডার হিসেবে। আর জন্টি রোডস হয়েছিলেন ফিল্ডিং দিয়ে। ফিল্ডিং তার কাছে ছিল ক্রিকেটের খুব গুরুত্বপূর্ বিষয়। তিনি সাধারণত ব্যাকওয়াড পয়েন্টে ফিল্ডিং করতেন। বল দেখে খুব দ্রুত দৌড়াতে পারতেন। যে কারণে অন্য ফিল্ডারদের পাশ দিয়ে যে বল চলে যেতে পারত অনায়াসে, জন্টি সেই বলই ধরে ফেলতে পারতেন সহজেই।
তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন- ‘হকি খেলা আমার ফিল্ডিংয়ে অনেক সাহায্য করেছিলে।’ হকি খেলার সময় স্টিকে বল রাখার জন্য প্লেয়ারকে বেশ খানিকটা নুয়ে থাকতে হয়, ফলে হকি খেলোয়ারদের পা এবং পিঠের নিচের অংশের পেশি শক্তিশালী হয়। যা দ্রুত দৌড়াতে সাহায্য করে।’
১৯৯২ এর বিশ্বকাপে এবং পরবর্তীকালে জন্টি রোডস যতদিন (২০০৩ সাল পর্যন্ত) খেলেছেন তার ফিল্ডিং দেখে মুগ্ধ হন নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আর এর জন্যে তাকে সাধনা করতে হয়েছে নিরলসভাবে। জন্টি অন্যদের চেয়ে দশ পনের মিনিট বেশি ক্যাচিং প্র্যাকটিস করতেন, বেশি বেশি স্টাম্পে বল ছুডার প্রকটিস করতেন। প্র্যাকটিসেও তিনি ম্যাচ ডের মত সর্বস্ব ঢেলে দিতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন 'পারফেক্ট প্র্যাকটিস মেকস্ ম্যান পারফেক্ট'। এই বিশ্বাস না নিয়ে প্র্যাকটিস করলে হযত জন্টি রোডস্ ফিল্ডিংয়ে এত উন্নতি করতে পারতেন না।
প্রাকটিসে কিংবা ম্যাচে জন্টির এই ডাইভ দেওয়ার মূল্য দিতে হয়েছে অনেক। প্রতিমাসেরই তাকে কার্ডিয়াক টেস্ট করাতে হত। হাত পা ছড়ে যেত। পিঠের নিচের দিক, হ্যামস্ট্রিং এগুলাতে প্রতি ম্যাচেই টান লাগত। ম্যাচের পরদিন তাই শরীর বিদ্রোহ করত। ফলে পর পর দুদিন ম্যাচ খেলা তার জন্য খুব কঠিন ছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন