জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় যেন অভ্যাসে পরিনত করেছিল বাংলাদেশ। ৯ বছরে টানা ৫ সিরিজ জয়ের পর এবার জিম্বাবুয়ের মাঠে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ। ভয় এখন হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার।

৯ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ। ৭ অগাষ্ট ২০২২, রোববার তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ হেরেছে ৫ উইকেটে। আর এর মধ্য দিয়েই নিশ্চত হয়ে গেছে বাংলাদেশের সিরিজ হার। এদিন টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠাছিল স্বাগতিক অধিনায়ক। বাংলাদেশ ২৯১ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল জিম্বাবুয়েকে। ১৫ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। উল্লেখ্য প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ৫  উইকেটে।


সর্বশেষ ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজি হেরেছিল টাইগাররা। সেটাও ছিল জিম্বাবুয়ের ঘরের মাঠে। এরপর মাশরাফির নেতৃত্বে নিজেদের মাঠে ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়েকে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইট ওয়াশ করেছিল টাইগাররা। ২০১৫ সালে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আবারও বাংলাদেশ সফরে আসে জিম্বাবুয়ে। ওই সিরিজেও ৩-০ তে হোয়াইট করে বাংলাদেশ সিরিজ জিতে নেয়। এরপর ২০১৯ সালে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ আবার ৩-০ তে হোয়াইট ওয়াশ করেছিল সফরকারীদের। ২০২০ সালেও ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে ৩-০ তে হোয়াইট ওয়াশ করছিল। ২০২১ সালেও তাই, ৩-০ তে হোয়াইট ওয়াশ জিম্বাবুয়ে, ব্যবধান ৩-০। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় যেন অভ্যাসে পরিনত করেছিল বাংলাদেশ। ৯ বছরে টানা ৫ সিরিজ জয়ের পর এবার জিম্বাবুয়ের মাঠে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ। ভয় এখন হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার।

প্রথম ম্যাচে কাইয়া-রাজা জুটি এবং দ্বিতীয় ম্যাচে রাজা-চাকাভা জুটি যেভাবে প্রথম দুটি ওয়ান জিতে নিল, হোয়াইট ওয়াশের ভয় তো পেতেই পারে টাইগার ভক্তরা। দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৯ রানে জিম্বাবুয়ের চার উইকেট পতনের পরই শুরু হয় রাজা-চাকাভার গল্প। চাকাভা যখন ১০২ রান করে থামেন তখন দু’জনের জুটি হয়ে গেছে ২০১ রানের। জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে যা পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি।

চাকাভা ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ফিরলেও রাজা অপরাজিত ছিলেন ১১৭ রানে । জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছেড়েছেন তিনি। আগের ম্যাচেও রাজা অপরাজিত ছিলেন ১৩৫ রানে। শেষ দিকে গতকালই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা টনি খেলেন মারকুটে ইনিংস। তিনি ১৬ বলে ৩০ রান যোগ করলে ১৫বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে যায় জিম্বাবুয়ে। সাথে সিরিজও জিতে নেয় ২-০ তে।

শুরুতে বাংলাদেশের বোলিং-ফিল্ডিং ভালো হলেও সময়ের সাথে সাথে যেন খেই হারিয়ে ফেলে। শরিফুল একাই ৭৭ রান দেন, ৯ ওভার বোলিং করে । আর তাসকিন দেন ৬২ রান ৯ ওভারে। উইকেট শিকারে এগিয়ে হাসান ও মিরাজ, দু’জনই ২টি করে উইকেট নেন।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ফিফটিতে বাংলাদেশ করেছিল ৯ উইকেটে ২৯০ রান। ওপেন করতে নেমে তামিম ৫০ রান করে আউট হয়েছেন। অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ করেছেন অপরাজিত ৮০ রান। এছাড়াও এদিন আফিফ ৪১, শান্ত ৩৮ রান করেছেন। দুই ফিফটি ও আফিফ, শান্তদের রানকে লড়াকু সংগ্র বলা যায়। কিন্তু হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন