মাহমুদউল্লাহকে বিশ্রামে পাঠিয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজের টি-টুয়েন্টি দলের অধিনায়ক করা হয়েছিল নুরুল হাসান সোহানকে। তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে সোহানের নেতৃত্বে প্রথম ম্যাচ হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিকই জয় তুলে নিয়েছিল। কিন্তু ইনজুরির কারণে খেলতে পারে নি শেষ ম্যাচ। তৃতীয় ম্যাচে মোছাদ্দেকের নেতৃত্বে খেলতে নেমে প্রথমবার জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারে টাইগাররা। শেষ ম্যাচে সোহান না থাকায় মাহমুল্লাহকে টি-২০ দলে নেওয়া হলেও তাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয় নি। মনে তাই প্রশ্ন জানে মাহমুদউল্লাহকে তবে টি-২০ দলের নেতুত্ব থেকে বাদই দেওয়া হল?  

২৬ জুলাই বাংলাদেশ দল জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছিল তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে। এই সফরের আগে মাহমুদউল্লাহর অধিনায়কত্ব ও পারফর্মেন্স নিয়ে বিস্তুর আলোচনা হয়েছিল। কারণ জিম্বাবুয়ে সফরের আগের কয়েকটি সিরিজে মাদমুদউল্লার ব্যাটে যেমন রান ছিল না তেমনি অধিনায়ক হিসেবেও খেলোয়ারদের উজ্জ্বীবিত করতে পারছিলেন না তিনি।

তাই ওয়েষ্ট ইন্ডিজ সফরে সফলতা না পাওয়া মাদমুদউল্লাহ দেশে ফিরে এলে তার সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলের বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, হাবিবুল বাশার ও আব্দুর রাজ্জাক। আলোচনা শেষে জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টুয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেছিলেন জালাল ইউনুস।

মাহমুদউল্লাহকে বিশ্রামে পাঠিয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজের টি-টুয়েন্টি দলের অধিনায়ক করা হয়েছে নুরুল হাসান সোহানকে। গতকাল ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন- সোহানকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেয়া হয়নি।

ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান তখন বলেছিলেন- ‘আমরা জিম্বাবুয়েতে নতুন একটা দল পাঠাচ্ছি। এ সিরিজে টি-টোয়েন্টিতে সোহান দলকে নেতৃত্ব দেবে।’ জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকে মাহমুদউল্লাহকে শুধু অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থেকেই সরিয়ে দেয়ার সাথে সাথে বিশ্রামও দেয়া হয়েছিল। ্সএক্থই সাথে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল আরেক সিনিয়র ক্রিকেটার মুশফিক রহিমকেও। আর সাকিব আল হাসান তো আগেই ছুটি নিয়ে রেখেছিলেন।

মাহমুদউল্লাহর বিশ্রাম!

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মোট ১২৮টি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলে সাকুল্যে জয় পেয়েছে মোট ৪৪টিতে। যদিও এই ফরমেটে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিলো জয় দিয়েই। ২০০৬ সালে নিজেদের প্রথম ম্যাচে খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়েকে ৪৩ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুর সাফল্য বাংলাদেশ পরবর্তীতে ধরে রাখতে পারেনি। এখন পর্যন্ত টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়। 


টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলকে এখন পর্যন্ত নেতৃত্ব দিয়েছেন শাহরিয়ার নাফিস, মোহাম্মদ আশরাফুল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মাহমুদউল্লাহ। সর্ষবশেষ যোগ হল ্ইআরও দু’জন, নুরুল হাসান সোহান ও মোছাদ্দেক হোসেন। কেউ সফল হতে পারেনি খুব একটা। ২০২১ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। সেই বিশ্বকাপেও পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বেরুতে পারেনি বাংলাদেশ দল। বরং ভরাডুবিই হয়েছিলো। মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্ব বা ফর্ম নিয়ে তখনও প্রশ্ন উঠেনি। বিশ্বকাপের পর পরই তাই পরবর্তী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে আস্থা রেখেই প্রস্তুতি শুরু করে বিসিবি। যে বিশ্বকাপ শুরু হবে তিন মাস পরেই। 

তবে কী ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেরর সময় সেন্ট লুসিয়া থেকে ডোমিনিকায় সমুদ্র যাত্রায় মাহমুদউল্লাহর ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়াই কাল হয়েছিল! সেই জাহাজ যাত্রায় কয়েকজন ক্রিকেটার মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে মাহমুদউল্লাহ তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন বেশ খোলামেলা ভাবেই।

সেই সময় একটি ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। যেখানে মাহমুল্লাহকে খুব ক্ষুদ্ধ দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন- ‘আপনারা প্লেয়ারদের অবস্থা দেখেন। এর লায়াবিলিটি কে নেবে? এখনো  টু অ্যান্ড হাফ আওয়ার বাকি আছে। সামনের অবস্থা আরও খারাপ। ২/৩ জন দাঁড়িয়ে আছে। বাকিরা সবাই ফ্লাট।’

অধিনায়ক হিসেবে মিডিয়ার সামনে মাহমুদউল্লাহর এ ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া তখন বিসিবির অনেকেই হয়ত ভালোভাবে নেননি। একদিকে অধিনায়কত্ব ও ব্যাটে রান না থাকার সমালোচনা অন্যদিকে অধিনায়ক হিসেবে এমন বক্তব্যেই জন্যই হয়ত কপাল পুড়েছে মাহমুদউল্লাহর। তার কি তবে আরও সংযত আচরণ করা উচিত ছিলো? যেমনটা ক্রিকেট কর্তারা চান।

মুশফিকের বিশ্রাম!

উইন্ডিজ সফরের আগে একবার শোনা গিয়েছিলো, মুশফিকুর রহিম টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে পারেন। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানিয়েই চলে গিয়েছিলেন হজ্জ্বব্রত পালন করতে। ফিরে এসে ট্রেনিংও শুরু করে দিয়েছেন দেরী না করে। কিন্তু জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টুয়েন্টি দলে তাকে রাখাই হয় নি। বিসিবি থেকে জানানো হয়েছিল, মুশফিককে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। তবে আছেন ওয়ান ডে দলে। 


পরিসংখ্নো বলছে, শেষ ১০টি টি-টুয়েনন্টি ম্যাচে মুশফিক রান করেছে মাত্র ১৭৭। ফিফটি মাত্র একটি। তিরিশ পেরুনো ইনিংস দুটি। বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি দলের পারফর্মেন্স বিবেচনায় নিলে এটাকে খুব একটা খারাপ বলা যাবে না। তবে অনেকেই বলছেন মুশফিক এখন দলের প্রয়োজন অনুসারে ক্রিকেট খেলতে পারছে না। গত স্কটল্যান্ড সফরেও ৩৬ বলে ৩৮ রানের একটি ইনিংশ খেলেন মুশফিক। আরেকটু আক্রমণাত্বক ক্রিকেট খেললে হয়তো ম্যাচটিতে জয়ী হতে পারতো বাংলাদেশ।

তবে কী মুশফিককে আগামী দিনে বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি দলেও আর দেখা যাবে না! সময়ই বলবে, তবে তেমন একটা ইংগিত কি পাওয়া গেলো জিম্বাবুয়ে সফর থেকে? আর মাহমুদউল্লাহকেও ফেরানো হবে না অধিনায়কত্বে? 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন