- প্রিয় লিও, অভিনন্দন।
‘রেকর্ডটি
গত ২০ বছর ধরে আমার ছিল এবং এটা আমি এত বছর উপভোগ করেছি। এখন এটা তোমার সঙ্গে ভাগাভাগি
করা দারুণ গর্বের ও আনন্দের। মন থেকে কামনা করছি, পরের ম্যাচেই যেন তুমি রেকর্ডটি ভাঙতে
পারো।’- গ্যাব্রিয়ের বাতিস্তুতা

‘গ্যাব্রিয়ের বাতিস্তুতা’- নামটা খুব পরিচিত লাগছে সবার কাছে। লাগারই কথা। ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপ মাতিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। করেছিলেন ১০টি গোল। যা আর্জেন্টাইদের মধ্যে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। দুই দশকের্ ধরে টিকে থাকা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার এই রেকর্ডটা ভাঙার সুযোগ এখন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির সামনে। কিন্তু দুঃখ নেই সাবেক এই আর্জেন্টাইন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার । এক টুইটে তিনি জানিয়েছেন তা। সাথে অভিনন্দন জানিয়েছেন মেসিকে।
অসংখ্য
রেকর্ড-কীর্তিতে গড়া লিওনেল মেসির ক্যারিয়ার। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়াটার ফাইনালে
নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে স্পট কিক থেকে গোল করে আর্জেন্টিনার জার্সিতে গাব্রিয়েল বাতিস্তুতার
সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন তিনি। বাতিস্তুতাকে ছাড়িয়ে সিংহাসনে একা বসার
সুযোগও আছে মেসির সামনে। সেমি ফাইনালে গোল পেলেই মেসি নাম লেখাতে পারবেন সর্বোচ্চ গোলের
রেকর্ড বুকে। আপত্তি নেই বাতিস্তুতার। তার চাওয়া, সেমি ফাইনাল ম্যাচেই রেকর্ডটি নিজের
করে নিক মেসি।
২০০৬
সালের বিশ্বকাপ দিয়ে মেসির গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থে পথচলা শুরু। বিশ্ব সেরার মঞ্চে এনিয়ে
খেলছেন পঞ্চমবার। কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ শুরু করেছিলেন তিনি ৬ গোল নিয়ে। এখন পর্যন্ত
এই বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ৪ গোল করেছেন বিশ্বের সেরা খেলোয়ার মেসি। সৌদি আরব ও মেক্সিকোর পর শেষ ষোলোয় অস্ট্রেলিয়ার
বিপক্ষে জালে বল পাঠিয়ে কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার ৮ গোল ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
কোয়ার্টার-ফাইনালে
গত শুক্রবার নেদারল্যান্ডসকে হারানোর ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে স্পট-কিক থেকে গোল করে বাতিস্তুতার
পাশে বসেন মেসি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে এখন দুইজনেরই গোল ১০টি করে।
বয়স
৩৫ হলেও মেসি জাদু চলছেই এই বিশ্বকাপে। একের পর এক গোল করা ও সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোয়
এগিয়ে আছেন তিনি। বাকি দুটি ম্যাচ এরকম খেলতে থাকলে গোল্ডেন বল জয় ও বিশ্বকাপ জয় শুধু
মাত্র সময়ের ব্যাপার বলেও ভাবছেন আর্জেন্টির ভক্ত, সমর্থক ও ফুটবল প্রেমীরা।
আগামী
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবেন
মেসি। আরও একটা মেসি জাদু কী অপেক্ষা করছে সেদিন! যদি মেসি ম্যাজিক সেদিন সত্যি হয়,
তাহলে লুসাইল স্টেডিয়াম থেকে মেসির মুখে হাসি ফুটার সাথে সাথে ফুটবে কোটি কোটি মেসি
ভক্তের মুখেও।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন